কাশ্মীরে ঘুরতে গেলে এবার নিরাপত্তা নিয়ে আরও নিশ্চিন্ত হতে পারেন ট্র্যাভেলহোলিকরা। জম্মু-কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে আরও নিরাপত্তা বাড়াতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে সংসদীয় কমিটি (Parliamentary panel)। সিসিটিভি নজরদারি থেকে শুরু করে জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যটকদের দ্রুত উদ্ধার—নিরাপত্তার বিভিন্ন দিকেই জোর দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পাহেলগামের বৈসরন উপত্যকায় জঙ্গি হামলার পর এই সুপারিশের গুরুত্ব আরও বেড়েছে । ওই হামলায় ২৬ জন মারা যান, যাদের বেশিরভাগই ছিলেন পর্যটক। তাই গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে সম্পূর্ণ সিসিটিভি (CCTV) কভারেজ নিশ্চিত করতে হবে। শুধু ক্যামেরা বসালেই হবে না , সেগুলিকে একটি কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার (Central Monitoring System) সঙ্গে যুক্ত করতে হবে এমনটাই বলা হয়েছে কমিটির সুপারিশে ।
আরও পড়ুন – ঘর সাজানোর এক্সক্লুসিভ গাইড! স্টাইলিশ ড্রয়িংরুম পেতে আজই জানুন এই সেরা ডিজাইন
আর কী কী বলা হয়েছে সুপারিশে?
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ঘাটতি থাকলে তা নিয়মিত চিহ্নিত করতে হবে। পর্যটনকেন্দ্রগুলির নিরাপত্তা ব্যবস্থার অডিট (Audit) করার উপরও জোর দিয়েছে কমিটি। এছাড়া
যেসব জায়গায় পর্যটকদের ঢল বেশি, সেখানে বিশেষ জরুরি উদ্ধারকারী দল রাখতে হবে। প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম-সহ অ্যাম্বুল্যান্স এবং ট্রমা কেয়ার (Trauma Care) পরিষেবা প্রস্তুত রাখার কথাও বলা হয়েছে।

জরুরি পরিস্থিতিতে পর্যটকদের দ্রুত নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট পথ চিহ্নিত অত্যন্ত আবশ্যক। হোটেল, পরিবহণকেন্দ্র এবং পর্যটনস্থলে একাধিক ভাষায় জরুরি ফোন নম্বর ও নিরাপত্তা নির্দেশিকা রাখার কথাও বলা হয়েছে।
সুপারিশ আরও বলা হয়েছে, পর্যটন মরসুম শুরুর আগে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির কাজের নিয়ম বা এসওপি (SOP) পর্যালোচনা করার উপরও জোর দিতে হবে। অমরনাথ যাত্রা এবং পর্যটন মরসুমের আগে যৌথভাবে নিরাপত্তা পরীক্ষা করতে হবে ।
কমিটির মতে, জম্মু-কাশ্মীরে পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও আরও শক্তিশালী করা জরুরি। পর্যটকদের নিরাপত্তাবোধ এবং ভ্রমণের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও এই নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরাসরি যুক্ত।
২০২৬ সালের ১১ থেকে ১৫ মে সংসদীয় কমিটি জম্মু, শ্রীনগর, গুলমার্গ, সোনমার্গ এবং কার্গিল সফর করে সেখানকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সরেজমিনে খতিয়ে দেখে।
লাদাখের নিরাপত্তা নিয়েও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে কমিটি। সেখানে আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা, কাউন্টার-ড্রোন (Counter-Drone) প্রযুক্তি এবং নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করার কথা বলা হয়েছে।
আরও পড়ুন – পর্দায় ফিরছে ইতিহাস! স্বাধীনতা দিবসের আগে দেখে নিন এই ৫ ছবি
উচ্চ পার্বত্য এলাকায় দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়াতে হবে বলে জানিয়েছে সংসদীয় কমিটি। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় প্রযুক্তি দ্রুত সংগ্রহ, মোতায়েন এবং সময়মতো আধুনিক করার পরামর্শ দিয়েছে কমিটি।
অর্থাৎ, কাশ্মীরের পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে এবার নজরদারি ও নিরাপত্তার পাশাপাশি জরুরি পরিষেবার দিকেও বিশেষ নজর দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। একই সঙ্গে লাদাখে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও শক্ত করার কথাও বলা হয়েছে।



