Homeসুস্থ থাকুনLymphoma Cancer : শরীরে নীরবে বেড়ে উঠছে লিম্ফোমা ক্যান্সার! বুঝবেন কী করে?

Lymphoma Cancer : শরীরে নীরবে বেড়ে উঠছে লিম্ফোমা ক্যান্সার! বুঝবেন কী করে?

- Advertisement -spot_img

ভাবুন তো, শরীরের ভেতরে এমন একটি ক্যান্সার (Cancer) ধীরে ধীরে বাড়ছে, অথচ প্রথমদিকে তেমন কোনও বড় লক্ষণই নেই! বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও, ভেতরে শুরু হয়ে যেতে পারে এক নীরব লড়াই। এমনই এক ধরনের ক্যান্সার হল লিম্ফোমা (Lymphoma Cancer), যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ অংশ লিম্ফ্যাটিক সিস্টেমে তৈরি হয়।

লিম্ফোমা (Lymphoma Cancer) কী?

লিম্ফোমা হল এক ধরনের ক্যান্সার, যা লিম্ফোসাইট (Lymphocyte) নামে এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা থেকে তৈরি হয়। এই কোষ সাধারণত ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য সংক্রমণের বিরুদ্ধে শরীরকে সুরক্ষা দেয়। কিন্তু জিনগত পরিবর্তনের কারণে লিম্ফোসাইটের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হলে কোষগুলি অনিয়ন্ত্রিতভাবে বাড়তে শুরু করে এবং ক্যান্সারে পরিণত হতে পারে।

আরও পড়ুন – ৫২-তেও তারুণ্যের ছাপ অটুট! কাজলের ফিটনেস ও সৌন্দর্যের নেপথ্যে কোন অভ্যাস?

লিম্ফোমা (Lymphoma Cancer) প্রধানত দুই ধরনের—হজকিন লিম্ফোমা (Hodgkin Lymphoma) এবং নন-হজকিন লিম্ফোমা (Non-Hodgkin Lymphoma)

Hodgkin Lymphoma: বিরল, কিন্তু চিকিৎসায় ভালো সাড়া দিতে পারে

Hodgkin Lymphoma-র অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল Hodgkin/Reed-Sternberg (HRS) cell-এর উপস্থিতি। এটি সাধারণত B-lymphocyte থেকে শুরু হয় এবং প্রথমে লিম্ফ নোডে দেখা দিলেও পরে শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়াতে পারে।

প্রথমদিকে অনেকের তেমন কোনও উপসর্গ নাও থাকতে পারে। তবে সময়ের সঙ্গে ঘাড়, বগল বা কুঁচকিতে ব্যথাহীন গাঁট, দীর্ঘদিন জ্বর, রাতে অতিরিক্ত ঘাম, অকারণে ওজন কমে যাওয়া এবং অস্বাভাবিক ক্লান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

এই রোগটি তুলনামূলকভাবে ১৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। এছাড়া ৫৫ বছরের পরেও ঝুঁকি বাড়তে পারে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে বা পরিবারে একই রোগের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি কিছুটা বাড়তে পারে।

সবচেয়ে আশার কথা, Hodgkin Lymphoma দ্রুত ধরা পড়লে আধুনিক চিকিৎসায় অনেক ক্ষেত্রেই ভালো ফল পাওয়া যায় এবং সুস্থ হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি।

Non-Hodgkin Lymphoma: বৈচিত্র্যময় ও জটিল

Non-Hodgkin Lymphoma (NHL) কোনও একক রোগ নয়, বরং ৭০টিরও বেশি উপধরনের একটি বড় গোষ্ঠী। এটি B-cell বা T-cell—উভয় ধরনের লিম্ফোসাইট থেকেই হতে পারে।

কিছু ধরনের NHL খুব ধীরে বাড়ে (Indolent), আবার কিছু ধরন দ্রুতগতিতে (Aggressive) ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই সব Non-Hodgkin Lymphoma সমান নয়; রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও ঝুঁকিও ভিন্ন হয়।

এর মধ্যে Diffuse Large B-cell Lymphoma (DLBCL), Follicular Lymphoma, Mantle Cell Lymphoma, Burkitt Lymphoma এবং T-cell Lymphoma উল্লেখযোগ্য।

সাধারণত ৬০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই রোগ বেশি দেখা যায়। এছাড়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া, HIV সংক্রমণ, অঙ্গ প্রতিস্থাপনের পর দীর্ঘদিন ইমিউনোসাপ্রেসিভ ওষুধ সেবন, কিছু অটোইমিউন রোগ এবং নির্দিষ্ট কিছু ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের সঙ্গেও এর সম্পর্ক রয়েছে।

কেন হয় লিম্ফোমা?

লিম্ফোমার নির্দিষ্ট একক কারণ এখনও জানা যায়নি। তবে কয়েকটি বিষয় ঝুঁকি বাড়াতে পারে—

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হওয়া, Epstein-Barr Virus (EBV) বা HTLV-1-এর মতো কিছু ভাইরাসের সংক্রমণ, বয়স বৃদ্ধি, কোষের DNA-তে জিনগত পরিবর্তন, কিছু অটোইমিউন রোগ, পারিবারিক ইতিহাস (যদিও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সরাসরি বংশগত নয়)

চিকিৎসা কী?

লিম্ফোমার চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের ধরন, স্টেজ এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার ওপর। প্রয়োজন অনুযায়ী কেমোথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি, টার্গেটেড থেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং বিশেষ ক্ষেত্রে স্টেম সেল ট্রান্সপ্ল্যান্ট করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসার অগ্রগতির ফলে অনেক রোগী সফলভাবে দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনযাপন করছেন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা

লিম্ফোমা ছোঁয়াচে রোগ নয় এবং শুধু ভুল জীবনযাপন বা কোনও নির্দিষ্ট খাবারের কারণে হয়—এমন প্রমাণ নেই। অনেক ক্ষেত্রেই এটি কোষের জিনগত পরিবর্তন এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার জটিল সমস্যার সঙ্গে সম্পর্কিত।

আরও পড়ুন – কেন ৫১ পীঠে ভিন্ন রুপে পূজিত হন দেবী সতী?

তাই শরীরে দীর্ঘদিন ধরে ব্যথাহীন গাঁট, অকারণ জ্বর, রাতে অতিরিক্ত ঘাম, ওজন কমে যাওয়া বা অস্বাভাবিক ক্লান্তি থাকলে অবহেলা করবেন না। দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। কারণ সময়মতো রোগ ধরা পড়লে এবং সঠিক চিকিৎসা শুরু হলে লিম্ফোমার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়।

- Advertisement -spot_img
- Advertisement -spot_img
Stay Connected
f
2,614
Facebook Followers
Follow
Must Read
Related News
spot_img