২০২৩ সালে ‘পাঠান’ আর ‘জওয়ান’-এর ঝড়ে বক্স অফিসের সব রেকর্ড তছনছ করে দিয়েছিলেন বলিউড বাদশাহ শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan)। রূপালী পর্দায় তাঁর সেই রূপকথা দেখার পর থেকে বিশ্বজুড়ে ভক্তদের অপেক্ষার প্রহর যেন আর শেষ হচ্ছিল না। দীর্ঘ তিন বছরের নীরবতা ভেঙে অবশেষে আগামী ২৪ ডিসেম্বর ২০২৬ বিশ্বজুড়ে প্রেক্ষাগৃহে নামছে সিদ্ধার্থ আনন্দ পরিচালিত মেগা অ্যাকশন এন্টারটেইনার ‘কিং’। সম্প্রতি ছবিটির মুক্তি ২০২৭ সালে পিছিয়ে যাওয়ার নানা জল্পনা শোনা গেলেও, সমস্ত গুঞ্জনে জল ঢেলে নির্মাতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন—ঘোষিত দিনেই প্রেক্ষাগৃহ কাঁপাতে আসছে শাহরুখের (Shah Rukh Khan) এই বহু প্রতীক্ষিত ছবি।
ক্রিসমাসে বক্স অফিসে অল-আউট ওয়ার!
তবে এবারের বড়দিনের ছুটির সমীকরণটা মোটেও সহজ নয়। শাহরুখকে (Shah Rukh Khan) টেক্কা দিতে বিশ্বজুড়ে একই সময়ে হাজির হচ্ছে হলিউডের তিনটি দৈত্যাকার ফ্র্যাঞ্চাইজি। ১৮ ডিসেম্বরই বিশ্বজুড়ে মুক্তি পেতে যাচ্ছে মার্ভেলের আলোচিত ধামাকা ‘Avengers: Doomsday’ এবং সাই-ফাই মহাকাব্য ‘Dune: Part Three’। ভারতে ‘স্পাইডার-ম্যান: ব্র্যান্ড নিউ ডে’-র অভাবনীয় সাফল্যের পর মার্ভেলের উন্মাদনা যে তুঙ্গে, তা নতুন করে বলার অপেক্ষা রাখে না। অন্যদিকে ‘ডুন: পার্ট টু’-এর চমকপ্রদ সাফল্যের পর এর আইম্যাক্স রিলিজের অপেক্ষায় নির্দিষ্ট এক বিশাল দর্শকগোষ্ঠী।

আরও পড়ুন: মাস্ট-ওয়াচ স্পাইডার-ম্যান! কেমন হলো পিটার-পার্কারের এই নতুন অধ্যায়?
শুধু এই দুটিই নয়, ২৫ ডিসেম্বরের এই যুদ্ধক্ষেত্রে যোগ দিচ্ছে ডোয়েন জনসনের অ্যাডভেঞ্চার ইউনিভার্স ‘Jumanji: Open World’-ও। এর আগের কিস্তিগুলি ভারতীয় বাজারে ৫০ কোটিরও বেশি ব্যবসা করায় ফ্যামিলি অডিয়েন্সকে টানতে এটিও বড় হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
দেশ বনাম বিদেশ: কোথায় পাল্লা ভারী শাহরুখের?
চলচ্চিত্র বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় প্রেক্ষাগৃহে সবচেয়ে বড় অস্ত্র স্বয়ং শাহরুখ খান (Shah Rukh Khan)। সঙ্গে রয়েছে এক ঝাঁক তারকা অভিনয়শিল্পী এবং এক নিটোল হিন্দি মাস-এন্টারটেইনারের টান। ফলে দেশের মাটিতে মার্ভেল কিংবা ডুন-এর মতো হেভিওয়েট ছবি থাকলেও ‘কিং’-এর জয়রথ থামানো কঠিন হবে। তবে আন্তর্জাতিক বাজারের চিত্রটা একদম আলাদা। বিশ্বব্যাপী স্ক্রিন ও শো টাইম দখলের লড়াইয়ে হলিউডি জায়ান্টদের মুখোমুখি হওয়া যেকোনো ভারতীয় ছবির জন্যই বিরাট চ্যালেঞ্জ।

এখানেই ট্রাম্পকার্ড হয়ে উঠতে পারেন আন্তর্জাতিক বাজারে শাহরুখের (Shah Rukh Khan) নিজস্ব অবিশ্বাস্য জনপ্রিয়তা এবং আন্তর্জাতিক ডিস্ট্রিবিউশনের দায়িত্বে থাকা যশ রাজ ফিল্মসের (YRF) সুদীর্ঘ অভিজ্ঞতা। তাদের গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বিদেশের মাটিতে ‘কিং’-এর জন্য সর্বোচ্চ স্ক্রিন ছিনিয়ে আনতে কার্যকর ভূমিকা নেবে বলেই মনে করছে ট্রেড মহলের একটা বড় অংশ।
২০২৭ নয় কেন? কেন বড়দিনেই বাজিমাত?
ছবিটির মুক্তি পিছিয়ে ২০২৭-এ নেওয়ার গুঞ্জন কেন খারিজ হলো? হিসেবটা বেশ পরিষ্কার। ২০২৭-এর জানুয়ারিতেই আসছে সঞ্জয় লীলা বনশালীর ‘Love & War’। ফেব্রুয়ারিতে রমজান মাসের পর মার্চে আসছে ‘Spirit’ এবং এপ্রিলে রাজামৌলির ‘Varanasi’। ফলে আগামী বছরে ফাঁকা উইন্ডো পাওয়াই দুষ্কর ছিল। কিন্তু ২০২৬ সালের বড়দিনে মুক্তি পেলে প্রাথমিক স্ক্রিন ভাগের চাপ থাকলেও, রিপাবলিক ডে পর্যন্ত কোনো নতুন বড় প্রতিদ্বন্দ্বী থাকছে না। ফলে ছবি যদি দর্শকদের মন জয় করে নেয়, তবে লাগাতার কয়েক সপ্তাহ বক্স অফিসে রাজত্ব চালানোর সুবর্ণ সুযোগ পাবেন বাদশাহ।

প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের মনে ভয় ও প্রত্যাশা
এই রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ে দেশের সিঙ্গল স্ক্রিন মালিকদের কপালে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ। একযোগে এতগুলি বিগ বাজেট ছবি প্রেক্ষাগৃহে এলে কোনো বিশেষ ছবির জন্য অতিরিক্ত স্ক্রিন চাপিয়ে দেওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তাঁরা। তবে একই সঙ্গে তাদের বিশ্বাস, একসঙ্গে এই বিশ্বমানের ছবিগুলির মুক্তি দর্শকদের আবার বিপুল সংখ্যায় প্রেক্ষাগৃহে ফিরিয়ে আনবে এবং ব্যবসার চাকা নতুন গতি পাবে।
আরও পড়ুন: বাস্তবের রূপকথা! রবির অনবদ্য বলিউড যাত্রা ও সরগুনের নিঃস্বার্থ প্রেম
হলিউডি তিন দৈত্যের মারমুখী আক্রমণের বিপরীতে একাই দাঁড়িয়ে বলিউডের ‘কিং’। বড়দিনের এই ঐতিহাসিক মহাযুদ্ধে শেষ পর্যন্ত শেষ হাসি কে হাসবে—মার্ভেলের সুপারহিরোরা নাকি রুপালী পর্দার অপ্রতিদ্বন্দ্বী বাদশাহ? তার উত্তর দেবে সময়ই!



